যেখানে আমরা এশিয়া কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারি না, সেখানে আমাদের বোর্ড সভাপতি বিশ্বকাপ খেলার বুলি আওড়াচ্ছেন।
নিজেদেরকে আগে এশিয়ান মঞ্চে তোলার যোগ্য করুন। বাকিটা আপনাআপনি ধরা দিবে।
৪৩ বছরের অপেক্ষা ফুরিয়েছে মালয়েশিয়ার; আর কত অপেক্ষা বাংলাদেশের? ফুটবল নিয়ে মালয়েশিয়ানদের উন্মাদনা আকাশছোঁয়া। জাতীয় দল তো বটেই ক্লাব ফুটবলেও একই চিত্র। ১৯৭৬ ও ১৯৮০ সালে বাছাইপর্ব পেরিয়ে এশিয়া কাপে জায়গা করে নেয় তারা। ২০০৭ সালে শেষবার এশিয়ার শীর্ষ ফুটবলে খেলে আসিয়ান অঞ্চলের দেশটি। সেবার অবশ্য স্বাগতিক হিসেবে খেলার সুযোগ মিলেছিল। সেই আসরে ৩ ম্যাচে ১২ গোল হজম করে মালয়েশিয়া। এই ভরাডুবির পরই নতুন করে ভাবনার শুরু মালয়েশিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের। বিনিয়োগ বাড়িয়ে, অবকাঠামো বদলে, যুব ফুটবলে ব্যাপক অর্থ ঢালে তাদের ফেডারেশন। সঙ্গে মালয়েশিয়া লিগে খেলা বিদেশি ফুটবলারদের নাগরিকত্ব দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে সফলও হয়। এত কিছুর পরও বাছাইপর্বের বাধা টপকে এশিয়ান মঞ্চে ফিরে আসতে তাদের লেগে গেলো ৪৩ বছর। যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে এশিয়ান মঞ্চে প্রত্যাবর্তনের উপলক্ষটা দারুণভাবে উদযাপন করেছে ফুটবল পাগল মালয়েশিয়ানরা। সারা দেশ ভেসেছে আনন্দে। মালয়েশিয়ার ইতিহাস গড়ার ম্যাচে ৪ গোল হজম করা বাংলাদেশের সমর্থকদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। কেননা ২০১৫ সালেও তাদের মাঠে ড্র করা বাংলাদেশকে উড়িয়ে দিয়েছে মালয়েশিয়া। ১৯৮০ সালে প্রথম ও শেষবার এশিয়া কাপে খেলে বাংলাদেশ। এরপর কেটে গেছে ৪২ বছর। পরের এশিয়া কাপ বছর পাঁচেক পর। ৪৭ বছর পরও কি অপেক্ষা ফুরাবে? পথটা খুব কঠিন নয়। আবার সহজও নয়। যোগ্য প্রবাসী ফুটবলারদের জাতীয় দলে সুযোগ দেয়ার পাশাপাশি ফাহিম-মারাজ-মিরাজুলদের মতো প্রতিভাবানদের গড়ে তোলা। তবেই হয়তো স্বপ্ন পূরণের লড়াইয়ে নামার রসদ পাওয়া যাবে। তবে সবার আগে ফুটবল প্রশাসকদের মানসিকতা বদলাতে হবে। সাফ ফুটবল নিয়ে না ভেবে এশিয়ান মঞ্চে কিভাবে ফেরা যায় সেটার ছক আঁকা। এশিয়া কাপকে টার্গেট করে এগোতে হলে কিভাবে পরিকল্পনা সাজাতে হবে সেটা নীতিনির্ধারক পর্যায়ের কর্তাদের ভালোই জানা আছে। শুধু প্রয়োজন সদিচ্ছার।

0 Comments