আউটসোর্সিং হচ্ছে কোনো প্রতিষ্ঠানের কাজ নিজেরা না করে
অন্য কোনো ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করিয়ে নেওয়া।

ইন্টারনেটের মাধ্যমে এক দেশে বসেই অন্য দেশের কোন কাজ করা যায়। পৃথিবীর বিভিন্ন উন্নত দেশ তাদের অনলাইন নির্ভর কাজগুলি অন্যান্য দেশের লোকজন দিয়ে করিয়ে নিচ্ছে।এই ধরনের কাজকে বলা হয়। আউটসাের্সিং। অন্যভাবে বলা যায়, আউটসোর্সিং বলতে এমন এক ধরনের ব্যবসায়িক প্রক্রিয়াকে বোঝায়, যার মাধ্যমে কোনও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তার কোনও কাজ (পণ্য বা পণ্যের অংশবিশেষ উৎপাদন বা সেবা) চুক্তির মাধ্যমে বাইরের দ্বিতীয় কোনও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে করিয়ে নেয়। অর্থাৎ বহিঃস্থ কোনও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পণ্য বা সেবার যোগান দেয়।

ইংরেজি "Outsourcing" শব্দটি এসেছে মার্কিন ইংরেজি শব্দগুচ্ছ "Outside Resourcing" থেকে।

বিদেশি এবং দেশি ঠিকাদারি উভয় আউটসোর্সিং এর অন্তর্গত, এবং কখনো আউটসোর্সিং, এ দূরবর্তী দেশে নিজের প্রতিষ্ঠান স্থাপন (সমুদ্রবর্তী) অথবা পাশাপাশি কোন দেশে প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও অন্তর্ভুক্ত থাকে। অনেক মানুষ আউটসোর্সিং এবং দূরবর্তী দেশে প্রতিষ্ঠান স্থাপন কে গুলিয়ে ফেলেন – তবে তারা ভিন্ন। একটি কোম্পানি আউটসোর্স করতে পারে (একজন আউটসোর্সিং সেবাদান কারী) দূরবর্তী দেশের কোন সাহায্য ছাড়াই. উদাহরণস্বরূপ, ২০০৩ সালে, Procter and Gamble কোম্পানি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কর্মীদের আউটসোর্স করে। কিন্তু এতে তারা দূরবর্তী কোন দেশের সাথে সম্পৃক্ত হননি। আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে আর্থিক ভাবে লাভবান হওয়া যায়। কারণ এতে স্থানীয় শ্রমিকদের চাইতে কম বেতন প্রদান করতে হয়। এটি আউটসোর্সিং এর ক্ষেত্রে একটি বড় অনুপ্রেরণা।


আউটসোর্সিং এ বাংলাদেশের অবস্থান

বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং শব্দ দুটি এ দেশে অনেকের কাছেই পরিচিত। দেশের প্রচুর ওয়েবসাইট ডেভেলপার, গ্রাফিকস ডিজাইনার, রাইটার, মার্কেটার বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেসে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছেন, আবার অনেকে নতুন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে মার্কেটে প্রবেশ করার চেষ্টা করছেন।বর্তমানে বিশ্বে আউটসোর্সিং তালিকায় বাংলাদেশ তৃতীয় অবস্থানে। এখানে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচ লাখ কাজ করেন মাসিক আয়ের ভিত্তিতে।


আউটসাের্সিং এখন একটি শিল্পে পরিণত হয়েছে। আউটসাের্সিং শিল্পকে কাজে লাগিয়ে আমাদের দেশের শিক্ষিত বিরাট

জনগােষ্ঠী এখন অর্থ উপার্জন করতে পারছে। আউটসাের্সিং এখন অনেকেরই পেশা হিসাবে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ প্রতি বছর আউটসাের্সিং হতে কয়েক মিলিয়ন ডলার আয় করে। শিক্ষিত বেকার জনগােষ্ঠী এই শিল্পকে কাজে লাগিয়ে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলাে ইন্টারনেট প্রযুক্তিকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করছে। উন্নত বিশ্বের মত বাংলাদেশেও অনেকে এই খাতে বিনিয়ােগ করছেন। ফলে বহু লােক সম্পৃক্ত হচ্ছে বিভিন্ন কাজে, সৃষ্টি হচ্ছে কর্মসংস্থান ।